যেসব পরিচিত লক্ষণ হার্ট অ্যাটাকের সংকেত

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৩ পিএম

সিনেমায় হার্ট অ্যাটাক মানেই বুকে হাত দিয়ে কষ্ট পাওয়া, হাঁপাতে হাঁপাতে পড়ে যাওয়া। বাস্তবে হার্ট অ্যাটাক সবসময় এতটা নাটকীয়ভাবে আসে না। অনেক সময় অ্যাসিডিটি, অল্প পরিশ্রমেই অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা এমন অবসাদ দিয়েও এর শুরু হতে পারে, যাকে অনেকে বিশ্রাম নিলেই ঠিক হয়ে যাবে বলে মনে করেন।

চিকিৎসকদের উদ্বেগের জায়গাটিও এখানেই। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর পর্যায়ে যাওয়ার আগেই হার্ট অ্যাটাকের কিছু সতর্কসংকেত দেখা দিতে পারে। কিন্তু এসব লক্ষণকে অনেকে দুপুরের ঝাল খাবার, ঘুমের ভুল ভঙ্গি কিংবা কর্মক্ষেত্রের চাপের সঙ্গে মিলিয়ে এড়িয়ে যান। এতে জরুরি চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময় হারিয়ে যেতে পারে।

তীব্র হার্ট অ্যাটাকের সময় হৃদ্পেশির কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায় বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। যত বেশি সময় রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত থাকে, তত বেশি হৃদ্পেশি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ বুকে অস্বস্তি। তবে এটি সবসময় তীব্র ব্যথা হয় না। বুকের মাঝখানে বা পুরো বুকজুড়ে চাপ, চেপে ধরা, শক্ত হয়ে আসা, ভারী বা ভরা ভরা লাগা কিংবা অস্বস্তি হতে পারে। কয়েক মিনিট পর তা কমে আবার ফিরে আসতেও পারে। তাই ব্যথা অসহ্য হওয়ার অপেক্ষা করা ঠিক নয়।

বুকের বাইরেও ছড়াতে পারে অস্বস্তি

হার্ট অ্যাটাকের অস্বস্তি শুধু বুকেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এক বা দুই হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পেটের ওপরের অংশেও তা ছড়িয়ে পড়তে পারে। চোয়ালে অজানা ব্যথা বা দুই কাঁধের মাঝখানে অস্বস্তিকে অনেকে পেশির সমস্যা মনে করেন। কিন্তু এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঘাম, বমিভাব বা বুকে অস্বস্তি থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।

হঠাৎ বা অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্টও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। অল্প পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট, পুরোপুরি শ্বাস নিতে না পারার অনুভূতি কিংবা বিশ্রামের সময়ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। এমনকি বুকে অস্বস্তি ছাড়াও শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

অ্যাসিডিটি ভেবে ভুল নয়

বুক বা পেটের ওপরের অংশে জ্বালাপোড়া কিংবা ভারী লাগলে অনেকেই সেটিকে অ্যাসিডিটি ধরে নেন। বদহজম, অ্যাসিডিটি ও বুকজ্বালা সাধারণ সমস্যা হলেও কখনো কখনো হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গও একই রকম মনে হতে পারে।

নতুন করে শুরু হওয়া বা কারণ বোঝা যাচ্ছে না এমন বুকজ্বালা, ভারী লাগা বা অস্বস্তিকে শুধু অ্যাসিডিটি ধরে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে এর সঙ্গে ঘাম, শ্বাসকষ্ট, বমিভাব, মাথা ঘোরা বা শরীরের অন্য অংশে অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে উপসর্গ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে বুকের মাঝখানে ব্যথার বদলে বমিভাব, বমি, তীব্র ক্লান্তি বা কোমরের নিচের অংশে চাপের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

সন্দেহ হলে কী করবেন?

হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে। সাহায্য আসা পর্যন্ত শারীরিক পরিশ্রম বন্ধ করে আরামদায়ক অবস্থায় বসে বা শুয়ে থাকতে হবে।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, জরুরি সহায়তা ডাকার পর কিছু ক্ষেত্রে অ্যালার্জি বা রক্তপাতের ঝুঁকি না থাকলে অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে চিকিৎসাকর্মীদের নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করাই নিরাপদ।

রোগী অচেতন হয়ে গেলে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে উপস্থিত ব্যক্তিদের সিপিআর শুরু করতে হবে। কাছে থাকলে স্বয়ংক্রিয় বহিঃস্থ ডিফিব্রিলেটর (এইডি) ব্যবহার করাও জরুরি।

চিকিৎসকদের মূল পরামর্শ হলো, হার্ট অ্যাটাক সবসময় সিনেমার মতো নাটকীয় লক্ষণ নিয়ে আসে না। সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলে তা বাড়ে কি না দেখার জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

এএম
আরও পড়ুন