দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে হাড় কাঁপানো শীত। এই কনকনে ঠাণ্ডায় নিয়মিত গোসল করা অনেকের জন্যই বেশ কষ্টের। শীতের এই দুর্ভোগ জয় করতে বর্তমানে ঘরে ঘরে গিজার বা ওয়াটার হিটারের চাহিদা বেড়েছে। তবে বাজারে নানা ধরণের গিজার থাকায় সঠিকটি বেছে নিতে অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন। আপনার প্রয়োজন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিজার কেনার আগে নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই দেখে নেওয়া উচিত।
অনেকেই মনে করেন ছোট গিজারের দাম কম, তাই সেটি কেনাই লাভজনক। এই ধারণা ভুল। পরিবারের সদস্য সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে গিজারের আকার নির্ধারণ করুন। প্রতি সদস্যের জন্য গড়ে ৩ লিটার পানি হিসাব করা প্রয়োজন। যেমন- ৪ জনের পরিবারের জন্য ১০ থেকে ১২ লিটারের গিজার কেনাই যুক্তিযুক্ত। এতে একবার সুইচ অন করলেই সবার জন্য পর্যাপ্ত গরম পানি পাওয়া যায়।
গিজারে বিদ্যুৎ খরচ একটি বড় চিন্তার বিষয়। কেনার আগে গিজারের ‘স্টার রেটিং’ বা এনার্জি লেবেল দেখে নিন। যত বেশি স্টার থাকবে, মেশিনটি তত বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবে। এছাড়া ছোট গিজারে বারবার পানি গরম করতে হয় বলে অনেক সময় বড় গিজারের তুলনায় বিদ্যুৎ খরচ বেশি হতে পারে।
গিজার যেহেতু বিদ্যুৎ ও পানির সংমিশ্রণে চলে, তাই এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বাড়িতে শিশু থাকলে ঝুঁকি আরও বেশি। গিজারে ‘সেফটি ভাল্ব’ এবং ‘অটো কাট-অফ’ ফিচার আছে কি না তা নিশ্চিত করুন। পানি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পৌঁছানোর পর বিদ্যুৎ সংযোগ নিজে নিজেই বিচ্ছিন্ন হওয়ার ব্যবস্থা থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে যায়।
গিজার কেনার আগেই আপনার বাথরুমের কোন জায়গায় এটি স্থাপন করবেন তা ঠিক করে নিন। দেয়ালের ধরন এবং ইলেকট্রিক পয়েন্টের দূরত্ব বুঝে গিজার নির্বাচন করুন। এছাড়া যে গিজার পরিচালনা করা সহজ (যেমন—সহজ নব, ডিজিটাল ডিসপ্লে বা ক্লিয়ার সেটিংস), সেটি প্রতিদিনের ব্যবহারে ঝামেলামুক্ত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতে নিয়মিত গোসল না করলে ত্বক শুষ্ক হওয়া, হজমের সমস্যা, মাথাব্যথা ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গরম পানির ব্যবহারে গিজার হতে পারে আপনার এই শীতের সেরা সঙ্গী।
শীতে ব্যথামুক্ত থাকতে যা করবেন
শীতে হার্ট ভালো রাখতে কী খাবেন?