পেট ব্যথায় স্বস্তি দেবে ৫ পানীয়

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৪ পিএম

পেপটিক আলসার বা পেটের ক্ষত অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক একটি সমস্যা। খাদ্যাভ্যাসে সামান্য অনিয়ম হলেই শুরু হয় তীব্র জ্বালাপোড়া ও পেট ব্যথা। চিকিৎসকরা মনে করেন, ওষুধের পাশাপাশি সঠিক পানীয় নির্বাচন আলসার নিরাময়ে জাদুর মতো কাজ করতে পারে। কিছু বিশেষ পানীয় পেটের অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্ষত দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে।

আলসার রোগীদের জন্য উপকারী কয়েকটি পানীয়ের বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:

১. বাঁধাকপির রস (Cabbage Juice):


আলসার নিরাময়ে বাঁধাকপির রস প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি ভিটামিন C এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা পেটের এইচ-পাইলোরি (H. pylori) ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। সকালে খালি পেটে অল্প পরিমাণ বাঁধাকপির রস খেলে পেটের অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং আলসারের জ্বালা কমে।

২. প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ পানীয় (দই বা ঘোল):


টক দই বা ঘোল আলসার রোগীদের জন্য আদর্শ। এতে থাকা ‘ভালো ব্যাকটেরিয়া’ বা প্রোবায়োটিক পেটের ভেতরের প্রদাহ কমায়। এটি পাকস্থলীর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দমনে অত্যন্ত কার্যকর, বিশেষ করে যারা অ্যান্টিবায়োটিক নিচ্ছেন তাদের জন্য এটি দারুণ সহায়ক।

৩. মধু ও ভেষজ চা (Herbal Tea):


ক্যাফেইনযুক্ত চা বা কফি আলসার বাড়িয়ে দেয়, তবে ভেষজ চা (যেমন- ক্যামোমাইল বা আদা চা) বেশ উপকারী। এর সাথে এক চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে পান করলে পেটের ভেতরে আরাম পাওয়া যায়। মধুর প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ক্ষত শুকাতে সাহায্য করে।

৪. আদা ও হলুদের চা:


আদা ও হলুদে রয়েছে শক্তিশালী প্রদাহরোধী উপাদান (Anti-inflammatory)। আদা চা বমি ভাব ও গ্যাস কমাতে সাহায্য করে, অন্যদিকে হলুদের 'কারকিউমিন' উপাদান পাকস্থলীর ক্ষত সারাতে ভূমিকা রাখে। তবে অতিরিক্ত মশলাযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো।

৫. আঁশযুক্ত পানীয় ও স্মুদি:


আঁশ বা ফাইবার হজমপ্রক্রিয়াকে সহজ করে। সবুজ শাকসবজির স্মুদি বা চিয়া বীজের পানীয় খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং পেটের ওপর চাপ কম পড়ে।

আলসার রোগীদের জন্য অ্যালকোহল, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়, কফি, এনার্জি ড্রিংক এবং সাইট্রাস বা টক জাতীয় ফলের রস (যেমন- লেবু বা কমলা) এড়িয়ে চলা জরুরি। কারণ এগুলো অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে ব্যথা তীব্র করতে পারে।

সতর্কতা: প্রাকৃতিক এসব পানীয় ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে কাজ করলেও, আলসারের তীব্র ব্যথা বা রক্তবমির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

DR
আরও পড়ুন