যেসব লক্ষণ দেখা দিলে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাবেন

আক্রান্তদের ৫০% টের পান না যে তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন।

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:৫৭ এএম

দীর্ঘমেয়াদী ব্যাধি ডায়াবেটিস। যা বর্তমানে প্রতিটি ঘরে ঘরেই দেখা দিচ্ছে। ছোট থেকে বুড়ো সবার শরীরেই বাসা বাঁধছে এই রোগ। একবার ডায়াবেটিস ধরা পড়লে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়ে ওঠে বেশ কষ্টকর।

বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, ২০৪৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে দেড় কোটিতে। এ কারণে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সবার সচেতন থাকতে হবে।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেন, ডায়াবেটিস আছে এমন রোগীদের অন্তত ৫০% জানেন না যে তার ডায়াবেটিস আছে। এ কারণে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সবার সচেতনতা বৃদ্ধি খুব জরুরি।

ডায়াবেটিস হওয়ার আগেই প্রি-ডায়াবেটিসের বেশ কিছু লক্ষণ শরীরে প্রকাশ পায়। প্রাথমিক অবস্থায় ডায়াবেটিস ধরা পড়লে তা সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হতে হবে-

যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হতে হবে

১. ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া ও পিপাসা লাগা। 
২. দুর্বল লাগা, ঘোর ঘোর ভাব আসা।
৩. ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া।
৪. সময়মতো খাওয়া-দাওয়া না করলে রক্তের শর্করা কমে হাইপো হওয়া।
৫. মিষ্টি জাতীয় জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া।
৬. কোনো কারণ ছাড়াই অনেক ওজন কমে যাওয়া।
৭. শরীরে ক্ষত বা কাটাছেঁড়া হলে দীর্ঘদিনেও সেটা না সারা।
৮. চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানি ভাব।
৯. বিরক্তি ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠা।
১০. চোখে কম দেখতে শুরু করা।

কাদের ঝুঁকি বেশি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের বাবা-মা, ভাই-বোন বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের এই রোগটিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি রয়েছে। যাদের হৃদরোগ রয়েছে, রক্তে কোলেস্টেরল বেশি, উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এছাড়া যারা নিয়মিত হাঁটাচলা বা শারীরিক পরিশ্রম করেন না, অলস বা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করেন, তাদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এছাড়া নারীদের গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস রোগ হতে পারে।

কী করবেন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাইপ ২ ধরনের ডায়াবেটিস রোগের ৭৫% ক্ষেত্রে আগেভাগে সতর্ক থাকলে, শারীরিক পরিশ্রম করলে এবং খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপনে নিয়ন্ত্রণ আনলে রোগ ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব।

বাংলাদেশের ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানান, যাদের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের অবশ্যই বছরে একবার ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতে হবে। ডায়াবেটিস শনাক্ত হলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কমবয়সী শিশু-কিশোর যাদের ঘনিষ্ঠ স্বজনদের ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, তাদেরকেও বছরে অন্তত একবার করে পরীক্ষা করাতে হবে।

সাইফুদ্দিন আরও বলেন, ডায়াবেটিস যত তাড়াতাড়ি শনাক্ত করা যাবে, সেই রোগীর জন্য সেটা ততো ভালো। তাতে তিনি যেমন রোগটির চিকিৎসা দ্রুত শুরু করতে পারবেন, পাশাপাশি তার জীবনযাপনও একটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে।

JA
আরও পড়ুন