অজান্তেই লিভার নষ্ট করছে সকালের এই অভ্যাসগুলো

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ এএম

লিভার বা যকৃত মানবদেহের অন্যতম কর্মক্ষম ও প্রধান অঙ্গ, যা রক্ত পরিশোধন থেকে শুরু করে খাদ্য থেকে পুষ্টি উপাদান আলাদা করা এবং বিপাক নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত বহু জটিল কাজ করে থাকে। তবে যকৃতের কোনো জটিলতা তৈরি হলে তা প্রাথমিক অবস্থায় সহজে বোঝা যায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অজান্তেই সকালের কিছু ভুল অভ্যাস নীরবে ক্ষতি করছে এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির।

চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন অভ্যাসগুলোর কারণে লিভার মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে:

১. সকালের নাশতা বাদ দেওয়ার অভ্যাস: ওজন কমানো বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার প্রবণতা লিভারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। দীর্ঘ রাতের উপোসের পর সকালে শরীরে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে লিভারকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যা যকৃতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

২. মিষ্টি ও ফ্রুক্টোজসমৃদ্ধ খাবারে দিন শুরু: ঘুম থেকে উঠেই অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার, মিষ্টি সিরিয়াল বা জ্যাম দেওয়া পাউরুটি খাওয়ার অভ্যাস লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এর ফলে পরবর্তী সময়ে ফ্যাটি লিভারের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

৩. খালি পেটে ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট সেবন: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই সকালে ঘুম থেকে উঠে বিভিন্ন ভিটামিন, ব্যথানাশক কিংবা ভেষজ ক্লিনজিং পণ্য বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার প্রবণতা লিভারের বিপাকক্রিয়াকে জটিল করে তোলে।

৪. বিছানায় অলস সময় কাটানো: ঘুম ভেঙে যাওয়ার পরও দীর্ঘক্ষণ বিছানায় শুয়ে থাকা বা কোনো ধরনের শারীরিক কার্যকলাপে অংশ না নেওয়া শরীরের সামগ্রিক মেটাবলিজম বা বিপাকপ্রক্রিয়া ধীর করে দেয়। লিভার সচল রাখতে সকালে সামান্য স্ট্রেচিং বা হাঁটার অভ্যাস অত্যন্ত জরুরি।

৫. তথাকথিত ‘ডিটক্স ড্রিংক’-এর ওপর ভরসা: শরীর প্রাকৃতিকভাবেই বর্জ্য নিষ্কাশন করতে সক্ষম হলেও অনেকেই বিভিন্ন ভেষজ বা অ্যাসিডযুক্ত ডিটক্স পানীয়র ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেন। এসব উপকরণের অতিরিক্ত ব্যবহারে লিভারের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৬. আগের রাতের অনিয়ম: অপর্যাপ্ত ঘুম, দেরিতে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী বা চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার মতো বদভ্যাসগুলো লিভারের হরমোন ও শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সকালের শারীরিক অবস্থার ওপর।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, লিভার সুরক্ষায় কোনো ব্যয়বহুল উপায়ের প্রয়োজন নেই; বরং সুষম খাবার খাওয়া, সময়মতো ঘুমানো এবং সকালের জীবনযাত্রায় ছোট কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনলেই এই অঙ্গটিকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন