নিয়মিত টমেটো খেলে বাড়তে পারে স্মৃতিশক্তি

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম

নিয়মিত টমেটো খাওয়া মধ্যবয়সী সুস্থ মানুষের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তির কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি মস্তিষ্কের বিভিন্ন স্নায়বিক নেটওয়ার্কের পারস্পরিক যোগাযোগেও পরিবর্তন আসতে পারে। Antioxidants সাময়িকীতে প্রকাশিত এক ক্লিনিক্যাল গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় ৪০ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ৪৭ জন প্রাপ্তবয়স্ককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁদের দুই দফায় তিন মাস করে নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করতে দেওয়া হয়। দুই দফার মাঝখানে ছিল এক মাসের বিরতি। এক দফায় অংশগ্রহণকারীরা নিয়মিত টমেটো পেস্ট খান, অন্য দফায় তাঁদের কম লাইকোপিনযুক্ত নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করতে হয়। গবেষণার শেষ পর্যন্ত ৪২ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন।

গবেষকেরা অংশগ্রহণকারীদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও অন্যান্য মানসিক দক্ষতা যাচাই করেন। পাশাপাশি রক্তে লাইকোপিন এবং ব্রেন-ডিরাইভড নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর (বিডিএনএফ) নামের একটি প্রোটিনের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগের ধরন পর্যবেক্ষণে বিশ্রামকালীন কার্যকরী এমআরআই (এফএমআরআই) ব্যবহার করা হয়।

গবেষণায় টমেটো পেস্ট গ্রহণের পর অংশগ্রহণকারীদের বাছাই করে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা, তথ্য প্রক্রিয়াকরণের গতি এবং মুখের সঙ্গে নাম মনে রাখার পরীক্ষায় উন্নতি দেখা যায়।

গবেষকদের হিসাবে, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের তুলনায় টমেটো পেস্ট গ্রহণের সময় মনোযোগের পরীক্ষায় স্কোর গড়ে ৭ দশমিক ২ পয়েন্ট এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের গতির স্কোর ৮ দশমিক ৩ পয়েন্ট বেশি ছিল। মুখের সঙ্গে নাম মেলানোর পরীক্ষায় স্কোরের পার্থক্য ছিল ০ দশমিক ৮ পয়েন্ট।

তবে সব ধরনের মানসিক দক্ষতায় উন্নতি দেখা যায়নি। বিশেষ করে নির্বাহী কার্যক্ষমতা যার মধ্যে পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমস্যা সমাধানের মতো দক্ষতা রয়েছে সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পাওয়া যায়নি।

টমেটোর কোন উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ?

টমেটোতে থাকা লাইকোপিন নামের প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টকে গবেষকেরা সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করেছেন। লাইকোপিন টমেটোর লাল রঙের জন্য দায়ী ক্যারোটিনয়েডগুলোর একটি। আগের গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এটি শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

নতুন গবেষণায় টমেটো পেস্ট খাওয়ার পর অংশগ্রহণকারীদের রক্তে লাইকোপিনের মাত্রা বেড়েছিল। লাইকোপিনের মাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে মনোযোগের পরীক্ষায় উন্নতি এবং মস্তিষ্কের কিছু নেটওয়ার্কের সংযোগে পরিবর্তনের সম্পর্কও পাওয়া যায়।

গবেষকেরা আরও দেখেছেন, টমেটো পেস্ট গ্রহণের সময় মস্তিষ্কের ফ্রন্টোপ্যারাইটাল ও শ্রবণ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের কিছু সংযোগ কমেছে। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের সময় মনোযোগের সঙ্গে যুক্ত ডরসাল অ্যাটেনশন নেটওয়ার্কের সংযোগে হ্রাস দেখা গেছে।

মস্তিষ্কের সংযোগ কমে যাওয়া সব সময় নেতিবাচক নয়। কোন নেটওয়ার্কে, কী পরিস্থিতিতে এবং অন্য কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে পরিবর্তন ঘটছে, তার ওপর এর অর্থ নির্ভর করে। তাই শুধু সংযোগের পরিবর্তন দেখেই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত হয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

গবেষণার সীমাবদ্ধতা

গবেষণাটিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল এবং তাঁরা সবাই সুস্থ মধ্যবয়সী প্রাপ্তবয়স্ক। ফলে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রেও একই ফল পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

এ ছাড়া গবেষণায় সাধারণ কাঁচা টমেটোর পরিবর্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘন টমেটো পেস্ট ব্যবহার করা হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীদের শরীরের ওজনের প্রতি কেজিতে দৈনিক ০ দশমিক ৫ গ্রাম টমেটো পেস্ট দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তাই এই ফলাফলকে সরাসরি প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক টমেটো খাওয়ার পরামর্শ হিসেবে নেওয়া উচিত নয়।

গবেষণাটি আরও বড় জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুনরাবৃত্তি করা প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদে টমেটো খেলে স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা যায় কি না কিংবা বয়সজনিত স্মৃতির অবনতি প্রতিরোধ করা সম্ভব কি না, সেটিও এখনো প্রমাণিত হয়নি।

তবু গবেষণাটি খাদ্যাভ্যাস ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে নতুন অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি করেছে। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে টমেটো খাওয়া যেতে পারে। তবে স্মৃতিশক্তি বাড়ানো বা স্মৃতিভ্রংশ প্রতিরোধের নিশ্চিত উপায় হিসেবে টমেটোকে বিবেচনা করার মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত