নীলফামারী জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ চলাকালীন সিল মারা ব্যালট পেপারের অসংখ্য ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভোট শেষ হওয়ার আগেই ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ও পেজে এসব ছবি ভাইরাল হওয়ায় নির্বাচনের স্বচ্ছতা, ব্যালটের গোপনীয়তা এবং নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই দেখা যায়, অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষে নির্দিষ্ট প্রতীকে সিল দেওয়ার পর সেই ব্যালটের ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করছেন। কোনো কোনো ছবিতে একক ব্যালট আবার কোথাও একাধিক ব্যালট পেপার দেখা গেছে। এসব পোস্টের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা দলের পক্ষে প্রচারণামূলক মন্তব্যও যুক্ত করা হচ্ছে, যা নির্বাচনি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সাধারণ ভোটারদের মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গোপন কক্ষে ব্যালট পেপারের ছবি তোলা বা তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাসত্ত্বেও ভোটাররা কীভাবে কেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করলেন এবং নির্বিঘ্নে ছবি তুললেন, তা নিয়ে নজরদারির ঘাটতি দেখছেন সচেতন মহল।
নীলফামারী-১ আসনের ৬৬ নম্বর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবু রায়হান সোহেল এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্যালটের ছবি ভাইরালের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে কেউ মোবাইল নিয়ে ভেতরে ঢুকতে না পারে। কিন্তু ভোটারদের দেহ তল্লাশি করার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। এর মধ্যেই কীভাবে ছবি তোলা হচ্ছে তা আমরা বুঝতে পারছি না।’
সচেতন নাগরিকদের মতে, ভোটের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম শর্ত। ব্যালটের ছবি প্রকাশ হয়ে পড়লে ভোটারদের ওপর পরবর্তীতে চাপ প্রয়োগ বা প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি থাকে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ছবির সত্যতা ও উৎস তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধারের দাবি নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারীর
ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে, ইঞ্জিনিয়ারিং হলে মেনে নেওয়া হবে না: মির্জা আব্বাস
