২০৩০ সালে বছরে দুইবার আসছে পবিত্র রমজান

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

সময়ের পরিক্রমায় ২০৩০ সালের ক্যালেন্ডারে এক বিরল বিস্ময়ের অপেক্ষা করছে মুসলিম বিশ্ব। আজ থেকে মাত্র চার বছর পর একই ইংরেজি বছরে দুইবার রমজান মাস পালন করার বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে যাচ্ছেন ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা। জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও হিজরি ক্যালেন্ডার বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ৩৩ বছর পর পর এই ধরনের কাকতালীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।

কেন বছরে দুইবার রমজান?

মূলত সৌরবছর (ইংরেজি ক্যালেন্ডার) এবং চন্দ্রবছরের (হিজরি ক্যালেন্ডার) মধ্যকার সময়ের পার্থক্যের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইংরেজি বছরের দৈর্ঘ্য যেখানে ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন, সেখানে হিজরি বছর হয় সাধারণত ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনের। এই ১১ দিনের ব্যবধানের কারণে প্রতি বছরই রমজান মাস এগিয়ে আসতে থাকে। আর এই পরিক্রমায় ২০৩০ সালে দুইবার রমজান মাস পড়ার গাণিতিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

২০৩০ সালের সম্ভাব্য সূচি

হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে দুই হিজরি সনের (১৪৫১ ও ১৪৫২) রমজান মাস একই বছরে পালিত হবে:

  • প্রথম রমজান: ২০৩০ সালের ৫ জানুয়ারি শুরু হবে হিজরি ১৪৫১ সনের রমজান মাস।
  • দ্বিতীয় রমজান: একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে হিজরি ১৪৫২ সনের রমজান মাস।
  • এর ফলে ওই বছর মুসলিম উম্মাহর সামনে ৩৬ দিন রোজা পালনের এক বিরল সুযোগ আসবে।

মহাজাগতিক এই চক্রটি প্রতি ৩৩ বছর অন্তর ফিরে আসে। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে একই বছরে দুইবার রমজান মাস দেখা গিয়েছিল। ২০৩০ সালের পর এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে বিশ্ববাসীকে আবারও ২০৬৩ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

২০৩০ সালের এই দুই রমজানই শীতকালে পড়বে। ফলে দীর্ঘ গ্রীষ্মের রোজা বা তীব্র গরমের ক্লান্তি থাকবে না। দিনের দৈর্ঘ্য তুলনামূলক কম থাকায় এবং আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ হওয়ায় রোজাদারদের জন্য সিয়াম সাধনা বেশ আরামদায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে ২০২৬ সালের রমজানের প্রহর গুনছে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ। তবে ২০৩০ সালের এই ক্যালেন্ডার বৈচিত্র্য নিয়ে এখনই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। যদিও গাণিতিক হিসেবে এই তারিখগুলো নির্ধারিত, তবে বরাবরের মতোই রমজানের চূড়ান্ত সময় নির্ভর করবে পবিত্র চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর।

সূত্র: গালফ নিউজ

NB/FJ
আরও পড়ুন