লোহিত সাগরের প্রবেশ পথ ‘বাব এল মান্দেব‘

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:০৮ পিএম

প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট দুটি বড় জলরাশির মাঝে তুলনামূলক সরু জলভাগকে বলা হয় প্রণালী। অর্থাৎ প্রকৃতির এমন খেয়াল বিভক্ত করে দুটি ভূ-ভাগকে। হতে পারে তা দেশ বা মহাদেশ। এমনই এক প্রণালী ’বাব আল মান্দেব’। নামটি মিশরীয় বা ইয়েমেনিদের কাছে উচ্চারিত হয় ‘বাব এল মান্দেব’ হিসেবে। এই প্রণালী বিচ্ছিন্ন করেছে আফ্রিকা ও এশিয়াকে। আর সংযোগ করেছে ভারত মহাসাগর ও লোহিত সাগরকে।

চলুন জেনে নেয়া যাক বর্তমান সময়ে বহুল আলোচিত ’বাব এল মান্দেব’ প্রণালী সম্পর্কে। আরবি বাব এল মান্দেব’ অর্থ ‘দুর্দশার দুয়ার’। ঐতিহাসিকরা মনে করেন, নামটির উদ্ভব হয়েছে এ প্রণালীতে দিক ভ্রমের কারণে। অর্থাৎ এই পথে নাকি দিকভ্রম হতো। আরেক উৎসে জানা যায়, কয়েক হাজার বছর আগে প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে এশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় আফ্রিকা। এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে মারা যায় বহু মানুষ। সেই দুর্যোগের কথা স্মরণ করে প্রণালীর নাম রাখা হয় বাব এল মান্দেব বা দুর্দশার দুয়ার। ইংরেজিতে বাব এল মান্দেব’কে কখনও কখনও অভিহিত করা হয় মান্দাব প্রণালী হিসেবেও।

‘বাব এল মান্দেব’ প্রণালীটি সংযোগ করেছে লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরকে। এটি আরব উপদ্বীপের ইয়েমেনকে আলাদা করেছে আফ্রিকার জিবুতি, ইরিত্রিয়া ও সোমালিয়াকে। ‘বাব এল মান্দেব’ প্রণালী এলাকায়, আফ্রিকা থেকে ইয়েমেনের সর্বোচ্চ দূরত্ব ১৩০ কিলোমিটার বা ৮০ মাইল। আর সর্বনিম্ন দূরত্ব ২৯ কিলোমিটার বা ১৮ মাইল। এ প্রণালীর গড় গভীরতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮৬ মিটার বা ৬০৯ ফুট।

লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল দিয়ে ভারত মহাসাগর এবং ভূমধ্যসাগরের মধ্যে একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে কাজ করে ‘বাব আল মান্দেব প্রণালী। তেল সমৃদ্ধ আরব অঞ্চল থেকে তেল আনা-নেয়ায়, হরমুজ প্রণালীর পরেই, এ প্রণালীর গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ইসরায়েল, জর্ডান, সৌদি আরব, মিশর, সুদান, ইরিত্রিয়া, জিবুতি’র সমুদ্র বন্দর নির্ভরশীল, এ প্রণালীর ওপর। ২০০৬ সালে এ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৩.৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বহন করা হয়। যেখানে সমগ্র বিশ্বে তেলবহনকারী ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে বহন করা হত ৪৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল।

আরব লীগের একটি উপ অঞ্চলও ‘বাব এল মান্দেব’। এ অঞ্চলের সদস্য দেশগুলো হলো: ইয়েমেন, সোমালিয়া, জিবুতি এবং কমোরো আইল্যান্ড। বর্তমান ইয়েমেনে পশ্চিমা বিরোধী হুতি আনসারুল্লাহ বাহিনী ক্ষমতাসীন হওয়ায়, ‘বাব এল মান্দেব’ প্রণালী হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ইয়েমেনের আগের শাসক গোষ্ঠিগুলো ছিলো পশ্চিমা সমর্থক। তাই এ প্রণালী’র ব্যবহার এবং সমুদ্র পথ নিয়ে কোন প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়নি পশ্চিমাদের। তবে হুতি আনসারুল্লাহ গোষ্ঠি ক্ষমতাসীন হওয়ায়, তাদেরকে হুমকি মনে করছে পশ্চিমারা। ফলে জাহাজ চলাচলে সতর্কতা বাড়ানোর পাশাপাশি এ প্রণালী এলাকায় রণতরী বা যুদ্ধ জাহাজের উপস্থিতি বাড়িয়েছে তারা।

আরব উপদ্বীপের সাথে আফ্রিকার সড়ক যোগাযোগে ‘বাব এল মান্দেব‘ প্রণালীতে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০০৮ সালে সৌদি ধনকুবের তারেক বিন লাদেনের কোম্পানী ঘোষণা দেয়, ইয়েমেন ও জিবুতিকে সংযোগকারী একটি সেতু নির্মাণের।

NC
আরও পড়ুন