কাসেমিরোর গোলে সমতায় ব্রাজিল

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ১২:৫৬ এএম

৫৬ মিনিট : কাসেমিরো গোলে সমতায় ব্রাজিল 

পরপর দুবার বাঁচার পর তৃতীয়বারে আর শেষ রক্ষা হয়নি জাপানের। গ্যাব্রিয়েল মাগালাইয়েসের ক্রসে কাসেমিরোর দারুণ এক হেডে সমতায় ফিরেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

জাপানের বিপক্ষে ১-০ তে পিছিয়ে ব্রাজিল

 

ব্রাজিলের জন্য হতাশার প্রথমার্ধ। হিউস্টন স্টেডিয়ামে খেলার ২৯ মিনিটে গোল খায় তারা। জাপান এক গোল দেওয়ার পর রক্ষণে ও আক্রমণে বেশ ধারালো হয়ে ওঠে। 

ফলে ব্রাজিলের সমতা ফেরানোর চেষ্টা গেছে বিফলে। এক গোলে পিছিয়ে থেকে হেক্সা মিশনে নামা ব্রাজিল বিরতিতে গেছে।

হাইড্রেশন ব্রেকের পরপর জাপান ব্রাজিলকে গোল দিয়েছে। মাঝমাঠে দানিলোর কাছ থেকে লুজ বল পান সানো। 

তিনি কাসেমিরোকে গতিতে পরাস্ত করে এগিয়ে যান এবং বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটটি নিখুঁতভাবে পোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে ভেতরে ঢুকে যায়। ২৯ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে গেল জাপান।

অথচ হাইড্রেশন ব্রেকের আগে ব্রাজিল বেশ আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। তারা পানি পানের বিরতির আগে প্রায় ৭৫ শতাংশ বল দখলে রেখে চারটি শট নিলেও গোল পায়নি। 

জাপানের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও স্কোরে কোনো ব্যবধান তৈরি করতে পারেনি। 

৩ মিনিটে ব্রাজিল আক্রমণের সুযোগ পায়। বক্সের প্রান্ত থেকে গিমারায়েসের শট প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। পাঁচ মিনিটে ওপর দিয়ে বল বাড়ায় ব্রাজিল। 

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে বল পড়ার আগেই জাপানি গোলকিপার সুজুকি সামনে এগিয়ে এসে দুই হাত দিয়ে পাঞ্চ করে বল ক্লিয়ার করেন। 

সম্ভবত এটি ম্যাচের শুরুর দিকের স্নায়ুচাপের লক্ষণ, কারণ তিনি চাইলেই সেখানে বলটি সহজেই ধরে ফেলতে পারতেন।

জাপান তেমন কিছুই করে উঠতে পারেনি শুরুর দিকে। তারা নিজেদের অর্ধেকের মধ্য থেকে বের হতেই হিমশিম খাচ্ছিল। ব্রাজিল একটি সুযোগের খোঁজে বল পাস করে খেলছে, তবে জাপানের রক্ষণভাগ বেশ সুসংগঠিত দেখাচ্ছে।

১০ মিনিটে দানিলো বাইলাইনে পৌঁছে বক্সের ভেতর বল বাড়ান। বলটি একজন ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের পায়ে পড়ে, যিনি সজোরে শট মেরে বসেন তারই সতীর্থের মুখে। 

চার মিনিট পর কুনহা বক্সের বাইরে থেকে  শট নেন। সুজুকি বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে কর্নার বানান। দ্রুত কর্নার নেয় ব্রাজিল। পাকেতার শট ডানপাশের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

১৬ মিনিটে জাপান বিপদজনক জায়গা থেকে ফ্রি কিক পায়। জুনিয়াকে ফাউল করেন কাসেমিরো। ডি বক্সের বাঁ পাশ থেকে কামাদার শট রক্ষণদেয়ালে লেগে মাঠের বাইরে যায়। ব্রাজিল সহজেই কর্নার কিক ফিরিয়ে দেয়।

প্রথম গোল হজমের পর সমতা ফেরাতে মরিয়া ছিল ব্রাজিল। কিছুক্ষণ পর বাম পাশ থেকে পাকেতার ফ্রি কিকে মারকুইনহোসের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। 

এরপর কিছুটা দূর থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট সহজেই হাতে নেন সুজুকি। ৩৯ মিনিটে কুনহার দূর থেকে নেওয়া শটও লুফে নেন জাপান কিপার।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিলকে আক্রমণে তটস্থ করে রেখেছিল জাপান। রিতসু দোয়ান ডানপ্রান্ত দিয়ে বেশ ভালোই ভোগান্তিতে ফেলেছেন তাদের। 

৪৪ মিনিটে তিনি জুনিয়া ইতোকে খুঁজে নেন, যিনি বক্সের ভেতর একটি বিপজ্জনক বল বাড়ান। সেটি ক্লিয়ার করতে ব্রাজিলকে বেশ বেগ পেতে হয়।

এরপর বামপ্রান্ত থেকে হিরোকি ইতো ভেতরের দিকে একটি বাঁকানো ক্রস বাড়ান। তবে ব্রাজিল কোনোমতে সেটিও সামাল দিয়ে নেয়। এটি জাপানের জন্য বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আরও একটি ভালো সময়।

ব্রাজিল একাদশ: 

অ্যালিসন; দানিলো, মারকিনিওস, গ্যাব্রিয়েল, সান্তোস; কাসেমিরো, গুইমারেস, পাকেতা; রায়ান, কুনহা ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

জাপান একাদশ: 

সুজুকি; তোমিয়াসু, তানিগুচি, হিরোকি ইতো; দোয়ান, সানো, কামাদা, নাকামুরা; জুনিয়া ইতো, উয়েদা ও মায়েদা। 

HN
আরও পড়ুন