নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেই সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক জানিয়েছেন, গত এক বছরে অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। এখন উৎপাদন আরও তিন গুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে তেহরান।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তালাই-নিক বলেন, ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়া কিছু কৌশলগত সরঞ্জামের উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইরানি এই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতারা যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন থামিয়ে দেওয়ার দাবি করলেও বাস্তবে তা হয়নি। যুদ্ধের মধ্যেও নিজেদের ব্যবহারের জন্য অস্ত্র ও সরঞ্জাম উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে ইরান।
তার ভাষ্য, নিজস্ব সরঞ্জাম ব্যবহারের পাশাপাশি একই সময়ে নতুন অস্ত্র উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। বহু বছর ধরে গড়ে তোলা কৌশলগত মজুত এবং বিস্তৃত সরবরাহ নেটওয়ার্কে প্রতিদিন নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পকে বড় সক্ষমতা দিয়েছে।
তালাই-নিকের দাবি, বর্তমানে ইরানের প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে ৯ হাজারের বেশি বেসরকারি ও জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে এই সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে পরিচালিত গবেষণা প্রকল্পগুলোর ৭৬ শতাংশ পণ্য উৎপাদনের পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও জানান তিনি।
উৎপাদন ব্যয়েও ইরান উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাচ্ছে বলে দাবি করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তার ভাষ্য, কিছু ইরানি অস্ত্র বিদেশি সমমানের অস্ত্রের তুলনায় এক-দশমাংশ এমনকি এক-বিশমাংশ ব্যয়েই তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।
ইরানের সামরিক শিল্পের পরিধি নিয়েও বড় ধরনের অগ্রগতির দাবি করেছেন তালাই-নিক। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশটি এক হাজারের বেশি ধরনের উন্নত সামরিক ব্যবস্থা ও অস্ত্র তৈরি করছে। ইসলামী বিপ্লবের আগে যেখানে মাত্র ৩১ ধরনের মৌলিক সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করা হতো, সেখান থেকে এই সক্ষমতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তার।
ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার দিক থেকেও ইরান বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি ড্রোন প্রযুক্তিতেও দেশটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।
তালাই-নিক জানান, কিছু সামরিক ব্যবস্থা ও অস্ত্র প্রকাশ্যে উন্মোচন না করার সিদ্ধান্ত ইচ্ছাকৃত। সামরিক গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রতিপক্ষকে কৌশলগতভাবে চমকে দিতে এসব ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রকাশ্যে সীমিত তথ্য দেওয়া হয়। তবে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উৎপাদন ও উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কমান্ডারদের পূর্ণাঙ্গভাবে অবহিত রাখা হয়।
ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের এই অগ্রযাত্রার পেছনে দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি এবং প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তালাই-নিক। তার দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা থেকে শুরু করে কৌশলগত সামরিক মতবাদ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা খাতে তাদের শত শত নির্দেশনা এই সক্ষমতা গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে।
তবে এসব পরিসংখ্যান ও সামরিক সক্ষমতার দাবিগুলো ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে; স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি
কাতারে আটক ইরানি পাইলটদের চিকিৎসার আহ্বান
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই শক্তিশালী হয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প: শাহরাম ইরানি
হামলা হলে এবার জবাব হবে আরও ব্যাপক: ইরান