হুতিরা হামলা চালালে 'ইরানে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের'

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দুটি জাহাজে হামলা চালানোর পর ইরানকে কঠোর সামরিক শাস্তির হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, হুতিরা যদি সৌদি জাহাজে আবারও হামলা চালায়, তাহলে তার দায় ইরানের ওপরই বর্তাবে এবং এর জবাবে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এক বছর আগে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী অভিযান চালিয়ে হুতিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল। এরপর থেকে এবং ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সময় হুতিরা তুলনামূলকভাবে দায়িত্বশীল আচরণ করছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের অভিযোগ, এখন হুতিরা আবারও হামলা শুরু করেছে। তিনি বলেন, গত রাতে তারা সৌদি আরবের দুটি জাহাজে গুলি চালিয়েছে। এ ধরনের হামলা আবার হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকেই দায়ী করবে, কারণ হুতিরা ইরানের প্রতিনিধি বা প্রক্সি হিসেবে কাজ করছে। সে ক্ষেত্রে ইরান এবং হুতি, উভয়কেই বড় ধরনের সামরিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন একটি ফ্রন্ট খুলে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই এ হুঁশিয়ারি আসে। হুতিরা এর আগে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার কথা জানিয়েছিল। একই সময়ে ইরানের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও বাধাগ্রস্ত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এদিকে ওমান জানিয়েছে, তারা জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক দূতের সহযোগিতায় সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লোহিত সাগরে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বিঘ্নিত হতে পারে, এমন যেকোনো পদক্ষেপ এড়িয়ে চলা জরুরি।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও হুতিদের হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, হুতিরা মূলত ইরানের প্ররোচনায় সৌদি আরব ও জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। তার আশা, হুতিরা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করে উত্তেজনা কমানোর পথ বেছে নেবে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসও হুতিদের অবিলম্বে জাহাজ চলাচল বিপন্নকারী কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগর,উভয় জায়গাতেই আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নির্বিঘ্ন থাকা প্রয়োজন।

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও অব্যাহত রয়েছে। রুবিও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেও ইরান বারবার চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে ‘আধিপত্যবাদী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন তাদের নীতি পরিবর্তন না করলে আলোচনায় অগ্রগতির পরিবেশ তৈরি হবে না।

এরই মধ্যে ইরান বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জর্ডান ও কুয়েতে হামলা চালানোরও দাবি করেছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ছয়টি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে কুয়েত জানিয়েছে, দেশটির আবদালি সীমান্ত ক্রসিংয়ে ড্রোন হামলায় স্থাপনার ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ইরানের দাবি, কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় বিভিন্ন গুদাম, জ্বালানিবাহী ট্যাংকার ও গোলাবারুদের ডিপোতে আঘাত হানা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরাক সীমান্তসংলগ্ন একটি সীমান্ত ক্রসিংয়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

AS
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত