ট্রাম্পের মধ্যস্থতা

পরস্পর হামলা বন্ধে সম্মত ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ

আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় পরস্পরকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধের একটি মার্কিন প্রস্তাব মেনে নিয়েছে ইসরায়েল এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর হামলা বন্ধ এবং এর বিনিময়ে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলা না চালানোর বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত লেবানন দূতাবাস হিজবুল্লাহর এই সম্মতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সফল মধ্যস্থতার কথা ঘোষণা করে জানান, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং হিজবুল্লাহর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। 

ট্রাম্পের দাবি, উভয় পক্ষই সব ধরনের গোলাগুলি ও হামলা বন্ধ করতে পুরোপুরি সম্মত হয়েছে। তবে এর আগে ইরান সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিল, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপ বর্তমান মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতিকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তির কথা স্বীকার করলেও হিজবুল্লাহকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলের শহর বা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নতুন করে হামলা বন্ধ না করে, তবে বৈরুতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান আবার শুরু হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, এই চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননে তাদের পূর্বপরিকল্পিত অভিযান সাময়িকভাবে চালিয়ে যাবে।

লেবানন দূতাবাসের বিবৃতি অনুযায়ী, এই মার্কিন প্রস্তাবের মূল শর্ত হলো হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা থেকে বিরত থাকবে এবং তার বদলে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলা বন্ধ রাখা হবে, যা পরবর্তীতে পুরো লেবানন জুড়ে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের দুটি গ্রামের কাছে ড্রোন ও কামান ব্যবহার করে ইসরায়েলি ট্যাংক ও সৈন্যদের ওপর তিনটি হামলা চালিয়েছে। বিপরীতে ইসরায়েলি বাহিনী লেবানন থেকে ছোঁড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করার দাবি করেছে।

এই মধ্যস্থতার পেছনে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি বড় ভূমিকা রাখছে, কারণ গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা পুরোপুরি শান্তি ফেরাতে পারেনি। উপরন্তু, হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ধাপে ধাপে উত্তেজনা কমানোর একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী চুক্তির আলোচনা বেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। সূত্র: বিবিসি

SN
আরও পড়ুন