ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে কাঁদলেন মার্টিনেজ

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার এক ধরনের রীতি তৈরি হয়েছে এমিলিয়ানো ‘ডিবু’ মার্টিনেজকে ঘিরে। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গোলরক্ষক ডিবু কথা বলেছেন দলের যাত্রা, নিজের চোট, উত্তরাধিকার এবং স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল নিয়ে।

দলের অর্জন নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে ডিবু বলেন, ‘প্রথমে আমাদের জিততে হবে, এখন আমার সব মনোযোগ সেদিকেই। এর বাইরে কিছু ভাবছি না। এই অর্জন শুধু আমার নয়, পুরো দলের। বছরের পর বছর ধরে আমরা এমন কিছু গড়ে তুলেছি, যা ভাষায় বোঝানো কঠিন। কখনো কখনো শুধু আমরা কী অর্জন করেছি, সেটা ভেবেই আমি কেঁদে ফেলি। এখন এই মুহূর্তটা উপভোগ করার সময়। পেশাদার ফুটবলার হিসেবে অনেক সময় বুঝতেই পারি না, আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু এই স্মৃতিগুলো সারাজীবন মনে থাকবে।’

বিশ্বকাপের আরেকটি ফাইনাল খেলতে নামার আগে নিজেকে মানসিকভাবে শান্ত বলেই মনে করছেন তিনি। ডিবু বলেন, ‘অনেকে মনে করেন, গোলরক্ষকের কাজ শুধু সেভ করা। কিন্তু আরও অনেক কিছু আছে। ক্রস কেটে দেওয়া, বল পায়ে রেখে শান্ত থাকা কিংবা ডিফেন্ডারদের আত্মবিশ্বাস দেওয়া, এসবও গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাই আমার সতীর্থরা জানুক, পেছনে আমি শান্ত আছি। এতে তারা সামনে নিজেদের খেলায় মনোযোগ দিতে পারে। এই বিশ্বকাপে আমরা প্রতি ম্যাচে প্রায় তিনটি করে গোল করছি, তাই তাদের সাহায্য করাই আমার দায়িত্ব।’

বিশ্বকাপ চলাকালীন হাতের চোট নিয়েও খেলছেন এই গোলরক্ষক। অস্ত্রোপচার না করেই মাঠে নামার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তিনি। ‘আমার হাতে এখনো প্রতিদিন ব্যথা হয়। চিকিৎসকেরা বলেছিলেন অস্ত্রোপচার না করলে খেলতে পারব না। কিন্তু আমি সেটা এড়িয়ে গেছি। পুরো গ্রুপ পর্বে দলের সঙ্গে ঠিকভাবে অনুশীলনও করতে পারিনি। পরে নকআউট পর্বে স্বাভাবিক অনুশীলনে ফিরেছি, এখন অনেক ভালো অনুভব করছি।’

বিশ্বজুড়ে শিশুদের কাছে নিজেকে আদর্শ হিসেবে দেখার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন ডিবু। ‘এখন অনেক শিশু গোলরক্ষক হতে চায়। আমি অবশ্য সব সময় বাবা-মায়েদের বলি, ওদের ফরোয়ার্ড হতে দিন, গোলরক্ষক নয়। এটা খুব কঠিন একটি পজিশন। তবে যদি তারা আমাকে দেখে পরিশ্রম আর আত্মত্যাগের শিক্ষা নেয়, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

ছোটবেলায় আর্জেন্টিনার খেলা দেখে কাঁদার স্মৃতিও তুলে ধরেন এই বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক। ‘আমি সব সময় জাতীয় দলের সমর্থক ছিলাম। ছোটবেলায় জার্মানির বিপক্ষে পেনাল্টিতে লেহমানের সেই সেভের পর বাসায় বসেই কেঁদেছিলাম। ইংল্যান্ডে খেলতে যাওয়ার পরও আমার একটাই স্বপ্ন ছিল, একদিন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক হওয়া।’

বর্তমান আর্জেন্টিনা দলকে কীভাবে মনে রাখতে চান, এমন প্রশ্নে ডিবুর উত্তর ছিল, ‘মানুষ যেন আমাদের নিজেদের একজন হিসেবেই মনে রাখে। আমরা মাঠে কথা বলি, বাইরে নয়। এই দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই সাধারণ, পরিশ্রমী পরিবার থেকে এসেছে। বছরের পর বছর আমরা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি। কঠিন সময় এসেছে, কিন্তু আমরা সব সময় এগিয়ে গেছি।’

ফাইনালে প্রতিপক্ষ স্পেনকে নিয়েও সতর্ক ডিবু। ‘স্পেন দুর্দান্ত একটি দল। তাদের অনেক খেলোয়াড়কে আমি চিনি। প্রিমিয়ার লিগে খেলে, লা লিগাও নিয়মিত দেখি। তাদের কোচও অসাধারণ এবং আমাদের কোচকে খুব ভালো করেই চেনেন। শুধু লামিনে ইয়ামাল নয়, পুরো দলই শক্তিশালী। তারা দল হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করে বলেই ফাইনালে উঠেছে। তাদের যেমন অস্ত্র আছে, আমাদেরও আছে। আশা করি, এমন একটি ম্যাচ হবে, যা দর্শকরা দীর্ঘদিন মনে রাখবে।’ সূত্র: মার্কা

AS
আরও পড়ুন