নিউইয়র্কের ‘লিটল প্যালেস্টাইন’-এ স্পেন সমর্থকদের জোয়ার

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম

নিউইয়র্কের ‘লিটল প্যালেস্টাইন’-এ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে স্পেনের সমর্থনে সরব হয়ে উঠেছে আরব-আমেরিকান সম্প্রদায়। ফিলিস্তিনের প্রতি স্পেনের অবস্থানই তাদের এই সমর্থনের প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রোববার (১৯ জুলাই) আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবে স্পেন। তার আগে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের বে রিজ এলাকার ‘লিটল প্যালেস্টাইন’-এ দেখা গেছে ভিন্ন এক আবহ। ফিলিস্তিনি, লেবানিজ, ইয়েমেনি ও বিভিন্ন আরব দেশের বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ প্রকাশ্যে স্পেনের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।

স্থানীয় আরব আমেরিকান ফেডারেশনের চেয়ারম্যান জেইন রিমাউই বলেন, ফুটবলকে রাজনীতি থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, ‘যে দেশ আমাদের, বিশেষ করে ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ায়, আমরাও সেই দেশকেই সমর্থন করি।’

২০২৪ সালে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় স্পেন। পাশাপাশি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানেরও প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছে দেশটি। সেই অবস্থানই আরব সম্প্রদায়ের কাছে স্পেনকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।

স্থানীয় আল-রিফ বেকারির মালিক তালাল আবদরাবোহ বলেন, ‘এটা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অবস্থান নয়। স্পেনের বিপক্ষে অন্য যে দলই থাকুক, আমরা স্পেনকেই সমর্থন করতাম। আমরা মন থেকে স্পেনের পক্ষেই আছি।’

বিশ্বকাপে এবার রেকর্ড আটটি আরব দেশ অংশ নেয়। মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছায়, আর মিশর শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে বিতর্কিত ম্যাচে বিদায় নেয়। আরব দলগুলোর ম্যাচে ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে সমর্থন জানানো ছিল নিয়মিত দৃশ্য।

বে রিজের আল-আকসা বেকারির মালিক মাহমুদ কাসেম জানান, আরব দলগুলোর ম্যাচ উপলক্ষে তিনি রেস্তোরাঁর বাইরে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করেছিলেন এবং দর্শকদের জন্য বিনামূল্যে ফালাফেল বিতরণ করেন।

তার মতে, বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের উৎসব নয়, আরব সম্প্রদায়ের ঐক্যেরও প্রতীক হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনি, লেবানিজ, মরক্কান, জর্ডানিয়ান, সবাই একসঙ্গে খেলা দেখেছে। এই ঐক্যই সবচেয়ে সুন্দর বিষয়।’

কাসেমের মতে, স্পেন শুধু রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই নয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কারণেও আরবদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তিনি বলেন, ‘স্পেন মানবতা ও স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাই আমরা তাদের সমর্থন করছি।’

স্থানীয়দের কেউ কেউ অবশ্য ফিফার সমালোচনাও করেছেন। তাদের অভিযোগ, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করলেও গাজা যুদ্ধের পরও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সূত্র: আলজাজিরা

AS
আরও পড়ুন