বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ি

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন। এরপর থাকতে চাইলে ফেডারেল সরকারের আলাদা অনুমতি নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, নতুন বিধিমালা আগামী সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। প্রশাসনের দাবি, এর মাধ্যমে ভিসার অপব্যবহার রোধ, নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাই এবং জাতীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।

এতদিন এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা ও জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীরা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ সুবিধার আওতায় পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারতেন। নতুন নিয়মে সেই সুযোগ বাতিল করে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ পরিবর্তন এবং একাডেমিক প্রোগ্রাম বদলের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আগে এসব ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি দিতে পারলেও এখন থেকে সেই ক্ষমতা থাকবে না।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, ‘দশকের পর দশক বিদেশি শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। অনেকেই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি হয়ে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছেন।’

এছাড়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বা অন্য ভিসা ক্যাটাগরিতে পরিবর্তনের জন্য সময় দেওয়া হবে ৩০ দিন। আগে এ সময়সীমা ছিল ৬০ দিন।

তবে সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক অলাভজনক সংগঠন ন্যাফসা: অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস। সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী ফান্তা আও বলেন, ‘এটি একটি অপ্রয়োজনীয় ও ভুল সিদ্ধান্ত। কার্যকর একটি ব্যবস্থায় অযথা অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে।’

বিশ্লেষকদের মতে, স্নাতকোত্তর, পিএইচডি এবং গবেষণাভিত্তিক অনেক কোর্স চার বছরের বেশি সময় নেয়। ফলে নতুন নিয়ম বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।

নতুন এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন ও বিদেশি শিক্ষার্থী নীতিতে কঠোর অবস্থানের ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে প্রশাসন অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার উদ্যোগ নেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনাকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভিসাও বাতিল করে। সূত্র: বিবিসি

AS
আরও পড়ুন