অতিরিক্ত মানসিক চাপেই কী পড়ছে চুল?

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

আমরা অনেকেই মানসিক চাপ বা স্ট্রেসকে হালকাভাবে এড়িয়ে যাই, কিন্তু এটি কেবল মনের ওপরই নয়, শরীরের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘকাল মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এর ক্ষতিকর ছাপ ফুটে ওঠে মানবদেহে, যা একটু খেয়াল করলেই স্পষ্ট বোঝা যায়। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—মানসিক চাপের কারণেই কি চুল ঝরতে পারে?

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞরা এর স্পষ্ট উত্তর দিয়েছেন—হ্যাঁ, অতিরিক্ত মানসিক চাপের সঙ্গে চুল পড়ার সরাসরি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মূলত অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে তিন ধরনের চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে—

১. টেলোজেন এফ্লুভিয়াম (Telogen Effluvium):

অতিরিক্ত মানসিক উদ্বেগের কারণে চুলের গোড়া দ্রুত বিশ্রাম বা নিষ্প্রাণ অবস্থায় চলে যায়। ফলে কয়েক মাসের মধ্যে চুল ধোওয়া বা আঁচড়ানোর সময় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ চুল একবারে উঠতে শুরু করে।

২. ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া (Trichotillomania):

এটি মানসিক চাপজনিত এমন একটি আচরণগত ব্যাধি, যেখানে ব্যক্তি দুশ্চিন্তা, একাকীত্ব, একঘেয়েমি বা হতাশা কাটাতে মাথার ত্বক, ভ্রু কিংবা শরীরের অন্যান্য স্থানের চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলার মানসিক প্রবণতায় ভোগেন।

৩. অ্যালোপেসিয়া অ্যারেটা (Alopecia Areata):

তীব্র মানসিক চাপ এই স্বাস্থ্য সমস্যার অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। এ অবস্থায় শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম ভুলবশত চুলের গোড়াকে আক্রমণ করে বসে, যার ফলে নির্দিষ্ট স্থানে গোল গোল হয়ে চুল ঝরে যায়।

তবে স্বস্তির খবর হলো, মানসিক চাপজনিত এই চুল পড়া সমস্যাটি সাধারণত স্থায়ী হয় না। নিয়মিত যত্ন ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে পুনরায় নতুন চুল গজানো সম্ভব। তবে হঠাৎ করে মাত্রাতিরিক্ত চুল ঝরতে শুরু করলে বা মাথার নির্দিষ্ট কোনো অংশ থেকে গোছা ধরে চুল উঠে গেলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় এটি শরীরের অন্য কোনো লুকানো শারীরিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে, যা দ্রুত চিকিৎসার দাবি রাখে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত