ব্রেস্ট বা স্তন ক্যানসার বলতেই অনেকের মনে প্রথমে আসে স্তনের ভেতরে শক্ত চাকা বা পিণ্ডের (লাম্প) কথা। তবে সব ক্ষেত্রে লাম্প তৈরি হওয়াই এ রোগের প্রথম লক্ষণ নয়। স্তনের ত্বক, রং কিংবা স্তনবৃন্তে কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মাধ্যমেও ক্যানসারের ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।
সাম্প্রতিক গবেষণার বরাতে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ শতাংশ স্তন ক্যানসার রোগীর ক্ষেত্রে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে টিউমারের পরিবর্তে ত্বকের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া ক্যানসারের চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অনেক রোগীর ত্বক, চুল ও নখেও পরিবর্তন আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্তনে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা গেলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পাশাপাশি স্তন ক্যানসার বিষয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মূল্যায়ন নিতে হবে।
ত্বকের যেসব পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে সাধারণত একটি স্তনে কয়েক ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যেমন—
ত্বকের রং পরিবর্তন বা স্থায়ী র্যাশ: স্তনের ত্বকে লালচে বা কালচে ছোপ পড়া, যা দীর্ঘদিনেও সেরে যাচ্ছে না।
কমলালেবুর খোসার মতো ত্বক: স্তন ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক উষ্ণতা অনুভূত হওয়া কিংবা ত্বকে ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়ে কমলালেবুর খোসার মতো দেখানো।
স্তনবৃন্তের পরিবর্তন: স্তনবৃন্তের আকৃতিতে হঠাৎ পরিবর্তন আসা বা তা ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া।
তবে এসব পরিবর্তন হলেই যে ক্যানসার হয়েছে, তা নয়। সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণেও এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কিন্তু পরিবর্তন স্থায়ী হলে বা দ্রুত বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ইনফ্লেমেটরি ব্রেস্ট ক্যানসার: লাম্প ছাড়াও ঝুঁকি
স্তনের ত্বকে এ ধরনের পরিবর্তন বিশেষভাবে দেখা যেতে পারে ইনফ্লেমেটরি ব্রেস্ট ক্যানসারের (আইবিসি) ক্ষেত্রে। এটি স্তন ক্যানসারের একটি বিরল, তবে আক্রমণাত্মক ধরন। এ রোগে অনেক সময় প্রচলিত শক্ত লাম্প তৈরি হয় না। ফলে শুধু লাম্পের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি দিয়ে রোগ নির্ণয় করা যায় না।
আইবিসির লক্ষণ কখনো কখনো স্তনের সংক্রমণ বা একজিমার মতো মনে হতে পারে। চিকিৎসকের দেওয়া চিকিৎসায় উপসর্গ না কমলে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা, ইমেজিং এবং প্রয়োজনে বায়োপসির পরামর্শ দিতে পারেন।
ক্যানসারের চিকিৎসায় ত্বক, চুল ও নখের পরিবর্তন
স্তন ক্যানসারের চিকিৎসার সময়ও শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
রেডিয়েশন থেরাপির প্রভাব: রেডিয়েশনের কারণে স্তনের ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি, জ্বালাপোড়া কিংবা ফোসকা পড়তে পারে। উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে ত্বকের যত্ন নিতে হয়।
চুল পড়ে যাওয়া: কেমোথেরাপির কারণে চুল ঝরে যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে স্ক্যাল্প কুলিং প্রযুক্তি চুল পড়ার পরিমাণ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা চিকিৎসার ধরন ও রোগীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
ভ্রু ও চোখের পাপড়ি পাতলা হওয়া: কেমোথেরাপির প্রভাবে ভ্রু ও চোখের পাপড়িও পাতলা হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসা শেষে অনেকের ক্ষেত্রে এগুলো আবার গজায়। এ বিষয়ে কোনো ওষুধ বা বিশেষ চিকিৎসা নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
স্তনে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত নিজের স্তনের স্বাভাবিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকলে নতুন কোনো পরিবর্তন সহজে শনাক্ত করা সম্ভব।
৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা-দাম্মাম ফ্লাইট চালু
ঢাকায় আসছেন চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিং
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দিতে চান ৪৮ শতাংশ মার্কিনি