দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা, টানা অতিবর্ষণ ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে চলমান এইচএসসি, আলিম ও সমমানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাতীয় ছাত্রশক্তি এবং বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।
সোমবার (১৩ জুলাই) পৃথক বিবৃতি ও মানববন্ধন থেকে সংগঠনগুলো এ দাবি জানিয়ে বলেছে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা এবং সমতার প্রশ্নে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করছে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের অন্তত সাতটি জেলায় পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাতে সংগঠনটি জানায়, বন্যায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার পানিবন্দী হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ছাড়া বহু শিক্ষার্থীর বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাঁদের পরীক্ষার প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রে পৌঁছানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা গ্রহণ করলে মেধার সুষ্ঠু মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং সুযোগের সমতা নষ্ট হবে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রেখে পরে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হয়।
ছাত্রদল তাদের বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের জীবন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিতে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে জাতীয় ছাত্রশক্তি এক বিবৃতিতে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। বহু পরীক্ষাকেন্দ্র প্লাবিত হয়েছে অথবা আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও বুকসমান পানি ও তীব্র স্রোত অতিক্রম করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যেসব শিক্ষার্থীর ঘরবাড়ি, বই-খাতা ও শিক্ষাসামগ্রী বন্যায় নষ্ট হয়েছে, তাঁদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেক শিক্ষার্থী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এ অবস্থায় পরীক্ষা নেওয়া মেধা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করবে বলে মনে করে সংগঠনটি। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনও চলমান এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি জানায়। একই সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
মানববন্ধনে ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সজীব হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রকৃতি ও পরিবেশকে উপেক্ষা করার ফলেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব আরও তীব্র হচ্ছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে এবং বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
১৫ জুলাই সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছ লাগানোর নির্দেশ
কওমি মাদরাসায় নীতিমালা ও বোর্ড উদ্যোগে আপত্তি
বৃত্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিতি বেড়েছে, কারণ খতিয়ে দেখছে সরকার
সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩ নির্দেশনা জারি