করলা স্বাদ তিতা হলেও এর পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা অপরিসীম। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ (ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্ট), লিভার পরিষ্কার, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ওজন কমানো এবং ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে।
স্বাস্থ্য রক্ষায় নানানভাবে কাজ করে করলার শরবত। ওজন কমানো আজকের ব্যস্ত জীবনযাপনে অনেকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিভিন্ন ডায়েট, ব্যায়াম বা সাপ্লিমেন্টের পরও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার অভিযোগ সাধারণ। এমন পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক উপায়ে সহায়তা করতে পারে করলার রস।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, ‘তিক্ত স্বাদের এই সবজি শরীরের মেটাবলিজমকে উজ্জীবিত করে, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং ক্যালরি ব্যবস্থাপনায় অবদান রাখে।’
নিয়মিত করলার রস পান করলে ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা, হজম ক্ষমতা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ধীরে ধীরে উন্নত হয়।
করলার রসে কম ক্যালরি এবং প্রচুর আঁশ থাকায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং হঠাৎ অতিরিক্ত খাবারের প্রবণতা কমায়। ফলে ওজন কমানোর প্রক্রিয়াতে এটি কার্যকর সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
ডা. নয়ন জানান, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে করলার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এতে ‘কারান্টিন’ ও ‘পলিপেপটাইড-পি’ নামক যৌগ রয়েছে, যা ইন্সুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়।
ফলে খাবারের শর্করা সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং চর্বিতে রূপান্তরিত হওয়ার পরিমাণ কমে। এই প্রক্রিয়া ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।
হজমশক্তির উন্নতিতে করলার তিক্ততা গুরুত্বপূর্ণ। এটি হজম প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে পেট ফাঁপা কমায় এবং আঁশের কারণে অন্ত্রের কার্যকারিতা সুস্থ রাখে।
তবে সংবেদনশীল পেটের ক্ষেত্রে, খালি পেটে অতিরিক্ত পরিমাণে পান করা এড়ানো উচিত।
করলায় ভিটামিন সি এবং পলিফেনলের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমে এবং স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এছাড়া করলার রস ইন্সুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়, প্রদাহ কমায় এবং ‘লিপিড প্রোফাইল’ উন্নত করে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
তবে ডা. নয়ন বলেন, ‘হাইপোগ্লাইসেমিক ওষুধ সেবনকারীদের করলার রস পানের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যাবশ্যক।’
সঠিক পরিমাণে ও নিয়মিত পান করলে করলার রস ওজন কমানোর পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য একটি কার্যকর প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে কাজ করে।

