চিনি পুরোপুরি বাদ দেওয়াও কী ক্ষতিকর? যা মিললো গবেষণায়

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ১২:০৬ পিএম

স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে অনেকেই খাদ্যতালিকা থেকে চিনি কমিয়ে দেন বা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেন। কারণ অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ নানা সমস্যার সঙ্গে জড়িত। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, খাদ্যতালিকা থেকে চিনি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়াও সব সময় স্বাস্থ্যকর নাও হতে পারে।

সম্প্রতি Endocrine Society-এর বার্ষিক সভা ENDO 2026-এ উপস্থাপিত এক গবেষণায় অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও বিপাকক্রিয়ার ওপর চিনিমুক্ত খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কম চর্বিযুক্ত খাবার থেকে সুক্রোজ (চিনির একটি সাধারণ রূপ) সম্পূর্ণ বাদ দিলে অন্ত্রে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন ঘটতে পারে এবং প্রদাহের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

গবেষণায় যা পাওয়া গেছে-

গবেষণায় ১৬ সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন খাদ্যাভ্যাসে রাখা কয়েকটি ইঁদুরের দলের মধ্যে তুলনা করা হয়। দেখা যায়, চিনিমুক্ত খাদ্য গ্রহণকারী ইঁদুরগুলোর ওজন অন্যদের তুলনায় বেশি না বাড়লেও তাদের শরীরে কিছু উদ্বেগজনক পরিবর্তন দেখা দেয়। এর মধ্যে ছিল-

  • রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা
  • ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
  • অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যে পরিবর্তন
  • অন্ত্রে প্রদাহের লক্ষণ
  • কিছু ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক উপসর্গ

গবেষকদের মতে, চিনি পুরোপুরি বাদ দিলে অন্ত্রে থাকা উপকারী অণুজীবগুলোর স্বাভাবিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। অথচ এসব অণুজীব হজম, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অন্ত্রের জীবাণুগুলোর স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হলে ‘ডিসবায়োসিস’ নামে পরিচিত একটি অবস্থা তৈরি হতে পারে। এই অবস্থার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ এবং বিভিন্ন বিপাকীয় রোগের সম্পর্ক রয়েছে।

তবে গবেষকরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই ফলাফল কোনোভাবেই অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার পক্ষে সমর্থন নয়। অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ এখনও স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের অন্যতম ঝুঁকির কারণ।

গবেষণাটির প্রধান বার্তা কী?

গবেষণাটির প্রধান বার্তা হলো স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মানে শুধু চিনি বাদ দেওয়া নয়, বরং সামগ্রিক পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল, শাকসবজি ও দুগ্ধজাত খাবারে থাকা প্রাকৃতিক চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার বা কোমল পানীয়তে যোগ করা অতিরিক্ত চিনি এক বিষয় নয়।

ফলমূল, শাকসবজি ও পূর্ণ শস্যজাত খাবারে থাকা আঁশ, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে এবং শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অর্থাৎ, চিনি কমানো উপকারী হলেও খাদ্যতালিকা থেকে তা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার আগে এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

AM/SN
আরও পড়ুন